বার্ষিক ১৫-২০ বিলিয়ন ডলার মূলধন ব্যয়ের পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানি, আগামী পাঁচ বছর আদানি গ্রুপ এ ব্যয় অব্যাহত রাখবে। গত মঙ্গলবার বার্ষিক শেয়ারহোল্ডার সভায় তিনি এসব তথ্য দেন। শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে গৌতম আদানি দাবি করেছেন, আদানি গ্রুপের পরিচালন কাঠামো বৈশ্বিক মানদণ্ড মেনে চলে। খবর এফটি।
আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফৌজদারি অভিযোগের কারণে আদানি গ্রুপের ভাবমূর্তি বর্তমানে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এমনই সময় বড় অংকের মূলধন ব্যয়ের পরিকল্পনাটি সামনে আনলেন গৌতম আদানি। এছাড়া আদানি গ্রুপের বিমানবন্দর খাতে ১০০ কোটি ডলার অর্থায়ন করবে সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংস্থা অ্যাপোলো ও ব্ল্যাকরক।
আরো জানানো হয়, ২০২৪ সালে আদানি গ্রুপের আয় ৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ১৫০ কোটি ডলার।
গত নভেম্বরে মার্কিন প্রসিকিউটররা গৌতম আদানিসহ আটজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনেন। যেখানে বলা হয় কয়েক বছর ধরে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে সুবিধা পেতে তারা ভারতীয় কর্মকর্তাদের ঘুস দিয়ে আসছেন।
গত মঙ্গলবার বার্ষিক সভায় গৌতম আদানি জানান, লাগাতার তদন্তের মুখেও তারা কখনো পিছু হটেনি। ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী এ ব্যবসায়ী বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (জিওজে) ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
তিনি জানান, গ্রুপের কোনো সদস্যকেই ফরেন করাপ্ট প্র্যাকটিসেস অ্যাক্টের (এফসিপিএ) আওতায় অভিযুক্ত করা হয়নি। তারা আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগে আদানি ব্র্যান্ডের ভাবমূর্তি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর কয়েকটি আন্তর্জাতিক তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম বিলম্বিত হয়েছে। তবু ঋণ পুনঃঅর্থায়ন ও পরিকল্পনা পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে এ বছর পুনরায় বাজারে ফিরেছে গ্রুপটি।
এর আগে ২০২৩ সালে নিউইয়র্কভিত্তিক ও বর্তমানে বন্ধ থাকা শর্টসেলিং প্রতিষ্ঠান হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ আদানির বিরুদ্ধে শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়ানো এবং জালিয়াতির অভিযোগ তোলে। এ অভিযোগের পর গ্রুপটির বাজারমূল্য রাতারাতি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার কমে যায়। অবশ্য কোম্পানির শেয়ারদর পরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।